ই পাসপোর্টের টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম | ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

বর্তমান সময়ে বেকারত্বের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর তাই আমরা অনেকেই বাইরের বিভিন্ন দেশে কাজকর্মের জন্য চলে যাচ্ছি। বিদেশ যাওয়ার জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস হচ্ছে পাসপোর্ট। বর্তমানে এই ডিজিটাল যুগে পাসপোর্ট কিংবা আপনার সকল ডকুমেন্টস এমন একটা প্রয়োজনীয় জিনিস যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। 
ই পাসপোর্ট
ই পাসপোর্ট
এবং এটি না থাকলে আপনার প্রচুর ক্ষতি হতে পারে। আর তাই আপনাদের এই ই-পাসপোর্ট বানানোর নিয়মকানুন গুলো জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন। কারণ হচ্ছে আপনি যদি কখনো ই-পাসপোর্ট বানাতে চান। তাহলে কোন ডুবলিকেট কিংবা দুই নম্বর দালালের কাছে না পড়েন ও আপনি নিজেই পোস্টটি পড়ে সেই সমস্ত ই-পাসপোর্টের বিষয়ক যাবতীয় তথ্য গুলো জেনে নিন।

তথ্য ও প্রযুক্তির এই যুগে ই-পাসপোর্ট বানানো খুবই সহজ কোন ধরনের দুই নম্বরি ছাড়াই এবং নিজের ঘরে বসে একটি কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের মাধ্যমে। আর এই ই-পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য পূর্বে অনেক সময় লেগে যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে খুবই তাড়াতাড়ি এই ই-পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়।

আপনি যদি প্রথমত এই ই-পাসপোর্ট এর আবেদন করে দেন। তাহলে পূর্ব সিডিউল ছাড়াই স্থানীয় ই-পাসপোর্ট অফিসে আপনি সাবমিট করতে পারেন। এবং আপনি এটা ধারণা করতে পারেন যে আপনার সকল ডকুমেন্ট যদি সম্পূর্ণ ও নিখুঁত এবং ঠিকঠাক থাকে তাহলে মাত্র এক মাসের মধ্যে ই-পাসপোর্টটি আপনারা হাতে পেয়ে যাবেন।

সাধারণত একটি মোবাইল বা কম্পিউটার দ্বারা আপনারা নিজ ঘরে বসেই ই-পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারেন। আপনারা এই অ্যাপ্লিকেশন টা করার জন্য সর্বপ্রথমে আপনার মোবাইলে কিংবা কম্পিউটারে গুগোল ব্রাউজারটি ওপেন করবেন ও সেখানে টাইপিং করবেনঃ E - Passport Online Registration Portal তারপর এই লিংকে দেওয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন।

এরপর সেখানে দেখতে পাবেন একটি এপ্লাই অনলাইন (Apply online) নামে বাটন সেটিতে ক্লিক করবেন ও আবেদনের জন্য সকল প্রক্রিয়া পরপর শুরু হয়ে যাবে। বর্তমানে আপনি যদি প্রথমত অনলাইনে e-passport অ্যাপ্লিকেশন করেন কিংবা আবেদন করেন। তাহলে তার জন্য কোন ধরনের কাগজপত্র লাগবে না।

তবে আপনার যদি প্রথম ডকুমেন্টসসহ সম্পূর্ণ কাজগুলো ভালভাবে হয়ে যায়। তাহলে তারপরে যে জিনিস গুলো লাগবে সেগুলো হচ্ছেঃ
  • অনলাইনে আবেদনের প্রিন্ট কপি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
  • ব্যাংকের ফি জমা দেওয়ার রশিদ।
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি ইত্যাদি।
বর্তমানে বিশেষ করে পাসপোর্ট কিংবা ই-পাসপোর্ট উভয়ের ক্ষেত্রে তিনটি মাধ্যমের দ্বারা ডেলিভারি হয়। আপনি যখন ই-পাসপোর্টটি এর জন্য আবেদন করে ফেলবেন। তারপরে বিশেষ সময় অন্তর কর্মদিবস পর ই-পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন। সেগুলো মূলত হলঃ
  • Regular- ১৫  কর্ম দিবস
  • Express- ৮ কর্ম দিবসে
  • Super Express- দুই কর্ম দিবস
বিশেষ করে দেশের ভেতরে অতি জরুরী একটি জিনিস হল পাসপোর্ট। আর এই পাসপোর্ট আবেদন সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য গুলো যদি সঠিক না থাকে। তাহলেও তার সাপেক্ষে দুই কর্মদিবসের মধ্যে সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট  প্রদর্শন করা হয়ে থাকে।

সাধারণত সকল পাসপোর্ট এর খরচ কিংবা দাম এক নয়, ডেলিভারির সময়, পাসপোর্টের পৃষ্ঠা এবং পাসপোর্টের মেয়াদ সময় সীমার উপর পাসপোর্ট এর খরচ নির্ভর করে থাকে। আর তাই ই-পাসপোর্ট গুলোর বিভিন্ন ধরনের মূল্য হয়ঃ 

৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদ সম্পূর্ণ ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি সহ Regular- মাত্র ৪ হাজার ২৫ টাকা, এবং Express- ৬ হাজার ৩২৫ টাকা। Super Express- মাত্র ৮,৬২৫ টাকা ও ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদীসম্পূর্ণ ই- পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি সহ Regular- ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। এবং Express- ৮ হাজার ৫০ টাকা, Super Express- মাত্র ১০ হাজার ৩৫০ টাকা, ৬৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদীসম্পন্ন ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি সহঃ
  • Regular- মাত্র ৬ হাজার ৩২৫ টাকা।
  • Express- ৮ হাজার ৬২৫ টাকা।
  • Super Express- ১২ হাজার ৭৫ টাকা।
৬৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদসম্পন্ন ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি সহঃ
  • Regular- মাত্র ৮ হাজার ৫০ টাকা।
  • Express- মাত্র ১০ হাজার ৩৫০ টাকা।
  • Super Express- মাত্র ১৩ হাজার ৮০০ টাকা।

ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

পাসপোর্ট আবেদন করা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অনেক ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর সেই সমস্যাকে কিছুটা হলেও লাঘব করেছে ই-পাসপোর্ট। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ই-পাসপোর্টের জন্য কোন কাগজ, ছবি সত্যায়িত করতে হয় না, ও ই-পাসপোর্ট আবেদনপত্র অনলাইনে করতে পারবেন। ই-পাসপোর্ট বানাতে কি কি লাগবে তা এক নজরে দেখে নিনঃ
  • পরিচয়পত্র
  • বাবা মায়ের ভোটার আইডি
  • স্টুডেন্ট আইডি কার্ড
  • কারিগরী সনদ
  • ঠিকানার প্রমাণপত্র
  • ই-পাসপোর্ট আবেদনপত্র
  • পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রশিদ
  • পুরাতন পাসপোর্ট
  • জিও বা এনওসি
  • বৈবাহিক সনদ
  • জিডি কপি

পরিচয়পত্র

জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র।

বাবা মায়ের ভোটার আইডি

অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাসপোর্ট আবেদনকারীর জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি বাবা এবং মায়ের ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার লাগবে।

স্টুডেন্ট আইডি কার্ড

ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বা প্রত্যয়ন পত্রের মূল কপি এবং ফটোকপি পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় সাথে নিতে হবে।

কারিগরী সনদ

কারিগরী পেশার সঙ্গে জড়িত থাকলে টেকনিক্যাল সনদ আপলোড করতে হবে।

ঠিকানার প্রমাণপত্র

বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা পৃথক হলে স্থায়ী ঠিকানার নাগরিক সনদপত্র অব্যশই থাকতে হবে। বর্তমান ঠিকানার কমিশনার নাগরিক পত্র বা চাকরিরত প্রতিষ্ঠান এর প্রত্যয়ন পত্র কিংবা আইডি কার্ড (কর্মজীবিদের ক্ষেত্রে), শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন পত্র বা স্টুডেন্ট আইডি কার্ড (ছাত্র ছাত্রীদের ক্ষেত্রে)।

ই-পাসপোর্ট আবেদনপত্র

পাসপোর্ট আবেদন করার পর আঞ্চলিক অফিসে যাওয়ার সময় অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি যা পেজের দুই পাশেই প্রিন্ট করবেন।

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রশিদ

ব্যাংকে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রশীদ।

জিডি কপি

হারানো পাসপোর্ট পুনরায় প্রিন্ট করার জন্য পাসপোর্টের ফটোকপি এবং জিডির ফটোকপি দিতে হবে। এবং মূল জিডি কপি প্রদর্শন করাতে হবে।

জিও বা এনওসি

সরকারি কর্মচারীদের GO, NOC কিংবা প্রত্যয়নপত্র, PRL Order অথবা পেনশন বই থাকলে আপলোড করবেন, এতে নিয়মিত ডেলিভারি পাসপোর্ট ফি জমা দিয়েও জরুরী সেবা তথা এক্সপ্রেস ডেলিভারি সহজে পাবেন। 

এছাড়াও ব্যাংক রশীদ, অনলাইন আবেদন পত্রের প্রিন্ট কপি, জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্ম সনদপত্র এর ফটোকপি, অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে বাবা ও মায়ের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি একসাথে স্ট্যাপল দিয়ে সংযুক্ত করে বাংলাদেশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।

আঞ্চলিক অফিসে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম সনদপত্র এর মূলকপি (প্রয়োজনে দেখানো লাগতে পারে) এবং ফটোকপি। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে বাবা এবং মায়ের ভোটার আইডি কার্ডের মূলকপি এবং ফটোকপি সঙ্গে নিতে হবে।

পাসপোর্ট আবেদনকারীর বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয়?

  • মাতা বা পিতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
  • পাসপোর্ট আবেদনকারীর বয়স ২০ বছরের বেশি হলে ভোটার আইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। ‍
  • তবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন কিংবা দূতাবাসে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে BRC English Version অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়েও আবেদন করা যায়।
  • BRC English Version অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।

অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট করতে কি কি লাগ?

পাসপোর্ট আবেদনকারীর বয়স যদি ০৬ বছরের কম হয়?

  • ৩ আর (3R Size) সাইজের ল্যাব প্রিন্ট গ্রে ব্যাকগ্রউন্ড ছবি দাখিল করতে হবে।
  • BRC English Version অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
  • মাতা বা পিতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

পুরাতন পাসপোর্ট

পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে ও মূল পাসপোর্ট আঞ্চলিক অফিসে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।

বৈবাহিক সনদ

বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ বা নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে। এছাড়াও পূর্ববর্তী পাসপোর্ট কিংবা ভোটার আইডি কার্ডে অবিবাহিত থাকলে স্বামী কিংবা স্ত্রীর ভোটার আইডি কার্ড আপলোড করতে হবে।

ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণের নির্দেশাবলী?

  • ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র এখন অনলাইনে পূরণ করা যাবে।
  • ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার তেমন প্রয়োজন হবে না।
  • ই-পাসপোর্ট ফরমে কোন ছবি সংযোজন ও তা সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না।
  • জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) অনুযায়ী আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।
  • অপ্রাপ্ত বয়স্ক যেমন (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী যার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নাই ও তার পিতা বা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) নিম্নোক্ত বয়স অনুসারে দাখিল করতে হবেঃ
  • ১৮ বছরের কম হলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version)।
  • ১৮-২০ বছর হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version)।
  • ২০ বছরের উর্ধে হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যক হবে। তবে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) অব্যশই গ্রহণযোগ্য হবে।
  • তারকা চিহ্নিত ক্রমিক নম্বরগুলো অবশ্যই পূরণীয় হতে হবে।
  • দত্তক বা অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনের সাথে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত আদেশ দাখিল বা প্রদর্শন করতে হবে।
  • আবেদন বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ঠ বিভাগীয় পাসপোর্ট এবং ভিসা অফিস/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস/বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে দাখিল করতে হবে।
  • প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ যেমনঃ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি আপলোড বা সংযোজন করতে হবে।
  • দেশের অভ্যন্তরে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফি এর উপর নির্ধারিত হারে ভ্যাট (VAT) সহ অন্যান্য চার্জ (যদি থাকে) তা অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় করতে হবে। বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রেও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি প্রদেয় করতে হবে।
  • অতি জরুরী পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন ইস্যু নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদপত্র সংগ্রহ পূর্বক আবশ্যিকভাবে আবেদনের সাথে দাখিল বা প্রদর্শন করতে হবে।
  • আবেদনের সময় মূল জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID), অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সনদ এবং সরকারি আদেশ (GO)/ অনাপত্তি (NOC) প্রদর্শন বা দাখিল করতে হবে।
  • পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। 
  • পুনরায় পাসপোর্টের জন্য আবেদনের সময় পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি ও জিডি কপিসহ আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।
  • পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট প্রদর্শন বা দাখিল করতে হবে।
  • হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি প্রদর্শন বা দাখিল করতে হবে।
  • ছয় বছর বয়সের নিম্নের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩ আর (3R Size) সাইজের (ল্যাব প্রিন্ট গ্রে ব্যাকগ্রউন্ড) ছবি দাখিল করতে হবে।
  • দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে দুই কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হয়।
  • দেশের অভ্যন্তরে জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
  • দেশের অভ্যন্তরে রেগুলার পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে পনেরো কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
  • কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার উইং (Consular and Welfare Wing) অথবা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।
  • বৈদেশিক মিশন হতে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হলে স্থায়ী ঠিকানার কলামে বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানা সর্বদা উল্লেখ করতে হবে।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও (GO)/এনওসি (NOC)/ প্রত্যয়নপত্র/ অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order)/ পেনশন বই আপলোড বা সংযোজন করতে হবে যা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে এ আপলোড থাকতে হবে।
  • বিশেষ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ/নিকাহনামা ও বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল বা প্রদর্শন করতে হবে।
  • ১৮ বছরের নিম্নের ও ৬৫ বছরের ‍উর্ধ্বে সকল আবেদনে ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ০৫ বছর ও ৪৮ পৃষ্ঠার।

ই পাসপোর্টের টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম | কোথায় টাকা জমা দেবেন

যদিও এই ই-পাসপোর্টের আবেদন অনলাইন দ্বারা সম্পন্ন হলে বিভিন্ন ধরনের শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী ফ্রী প্রদান করতে হয়। তবে বর্তমানে সরকারি পেমেন্ট গুলো সম্পূর্ণরূপে ওয়েবসাইট এর দ্বারা বন্ধ রয়েছে। অতএব, আপনারা যদি প্রেমেন্ট করতে চান তাহলে সোনালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এশিয়া ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে আপনাকে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। 

এবং যে ব্যাংক ডিপোজিট ফরমটি আছে সেখানে আবেদনকারীর নাম ও ই-পাসপোর্টে দেওয়া আবেদনকারীর নাম ভিন্ন ভিন্ন হতে হবে। এছাড়াও আপনার সমস্ত ডকুমেন্টস সহ ফটোকপি প্রয়োজন হতে পারে। আর একই সাথে পাশাপাশি অনলাইনে আবেদনের যে প্রিন্ট কপি সেটিও নিয়ে যাবেন। এবং আপনাদের সর্বক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে জিজ্ঞাসিত সকল তথ্যগুলো সব সঠিক আছে কি না। 

কারণ যখন পুলিশ ভেরিফিকেশন হয় তখন যদি আপনাদের ওই তথ্যগুলো ব্যতিক্রম কোন কারণে ভুল পাওয়া যায়। তাহলে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়তে হবে। আর তাই এই পাসপোর্ট বানানোর সম্পর্কে আপনাদের সবাইকে সতর্ক হতে হবে এবং ভাল করে সাবধানতার সঙ্গে এটি হ্যান্ডেল করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বর্তমান আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url